হৃদয়বিদারক এই ছবিটি শুধু সবাইকে কাঁদায়নি, হার মানিয়েছে মানবতাকেও!

হৃদয়বিদারক এই ছবিটি শুধু সবাইকে কাঁদায়নি, হার মানিয়েছে মানবতাকেও!
Loading...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ছাদ থেকে চার দিনের নবজাতককে ফেলে দেয়ার ঘটনার ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।ছবিটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার দিয়ে আবেগতাড়িত হয়েছেন অনেকেই। বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নির্মম, হৃদয়বিদারক এই ছবিটি।এই ছবিটি শুধুমাত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়াকেই কাঁদায়নি। সামাজিক মাধ্যমে শোকের মাতাম তুলেছে ছবিটি।যে মায়ের কোলে সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকার কথা ছিল সেই কোলই সন্তানের জীবন কেন কেড়ে নিল সেই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন অনেকে।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে- হাসপাতালের সামনের সড়কে পড়ে আছে প্রাণহীন শিশু। নিথর ছোট্ট দেহকে ঘিরে রয়েছে হতভম্ব জনতা।

এ নিয়ে সৈয়দ মো. মহসিন নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখিছেন, ‘এমন মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আয়লান কুর্দির মৃত্যু দুনিয়ার বিবেককে নাড়া দিয়েছিলো। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিস্পাপ শিশুকে নিয়ে দি ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের ছাদ থেকে পরে গৃহবধূর মৃত্যর ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা বাংলার মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেল। এমন মৃত্যু কারও কাছেই প্রত্যাশিত নয়। পরপাড়ে ভালো থেকো প্রয়াত মা ছেলে।’

ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রকাশ দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘জীবন চলার টাকা নামক কাগজের কাছে পরাজিত নবজাতকের মরদেহ। নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ, নিথর। যেখানে সকল শব্দেরাই ইতি টানলো। জীবনের কাছে কতটাই না অসহায় আত্মসমর্পণ ছিল সেই মায়ের, যে মা তার চার দিনের নবজাতককে বহুতল ভবন থেকে ফেলে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিল। পরে নিজেও সেই ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবনের শেষ অধ্যায়ের রচনা করে গেল। পেছনে রেখে গেল নানা প্রশ্নের ঝুলি।’

মর্মান্তিক ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে পলাশ নামে একজন লিখেছেন, ‘আজ যে শিশুর থাকার কথা ছিল পরম আদরে, বাবা-মায়ের মান-অভিমান তাকে নিয়ে গেল লাশকাটা ঘরে।

সরকারী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা জানান তার আবেগ ও অনুভূতির কথা। এসময় তিনি আরও বলেন- এই ছবিটি কাদিঁয়েছে আমাদের।

এভাবেই অনেকে ফেসবুকে শিশুটির ছবি নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন ছবিটি শুধু মানুষকে কাঁদিয়েছে না। হার মানিয়েছে মানবতাকে।

 

মা-সন্তানের মৃত্যু ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি।মামলার তদন্তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, এই বিষয়ে হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ কোন গাফলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, ‘শিশুর ছবিটি দেখে আমরাও মর্মাহত। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত পর জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা। তবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর সাথে অভিমান করেই সীমা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর প্রসব বেদনা নিয়ে ল্যাব এইড হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী লাইফ কেয়ার শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন সীমা।

এদিন রাতেই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তান প্রসব করেন। শুক্রবার সকালে সীমা ও তার সন্তানের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার কথা ছিল।উল্লেখ্য, হৃদয়বিদারক শিশুহত্যার এ ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ছাদ থেকে মাত্র চার দিনের নবজাতককে ফেলে দেয় সীমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ। পরে নিজেও লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।শহরের পুরনো জেলরোডের দ্য ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

Loading...