সবাই যখন সাজেক, সিলেট, কক্সবাজার নিয়ে ব্যস্ত তখন আমি আসলাম নিঝুমদ্বীপ নিয়ে

নিঝুমদ্বীপ
Loading...

সবাই যখন সাজেক, সিলেট, কক্সবাজার নিয়ে ব্যস্ত তখন আমি আসলাম নিঝুমদ্বীপ নিয়ে বলতে। মাইরেন না আবার,বিশাল লেখা হবে। কিচ্ছু করার নাই এই জায়গা যেমন সুন্দর, গুনে মানে অনন্য তেমনি এই জায়গায় যাইতেও অনেক ধরনের পথ আছে।

আসলে দ্বীপ হওয়াতে অনেক ভাবেই যাওয়া যায়।

হালকা পরিচিতি দিয়ে আমি আসল কথায় চলে আসি। এই দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া তে অবস্থিত। এবং হাতিয়া থেকেও প্রায় ৬০-৭০ কিলো দূরে। এইখানে আপনি শান্ত সৃষ্ট একটা সৈকত পাবেন উপভোগ করার জন্য এবং পুরো সৈকত ই থাকবে নিঝুম বা নিরিবিলি কথা দিলাম।

নিঝুমদ্বীপ

সামনে হাতের ডানেই খাল শুরু হয়েছে ওই পাড়ে ম্যানগ্রোভ বন টাইপ গাছপালা। আপনি এইখানে বছরের সব সময় যাইতে পারবেন। আমার মতে শীতের শুরুতে এবং পুরো শীতকাল জুড়ে এই জায়গা আপনাকে হতাশ করবে না, কোনভাবেই না। নিঝুমদ্বীপের মানুষ গুলো সাধারন এবং সাদাসিধে। খারাপ তো থাকেই সব জায়গায় তাদের খপ্পরে পড়লে কপাল খারাপ হবেই। এরজন্য বাকী ৮০ ভাগ লোককে কেনো খারাপ বানাবেন। এখন আসি আসল কথায়। কিভাবে যাবেন এই জায়গায়ঃ

১: নদীপথ(ভোলা,মনপুরা হয়ে)

২: নোয়াখালী দিয়ে( বাস এবং ট্রেনে করে নোয়াখালী এরপর সী ট্রাক এ করে)

৩: চট্টগ্রাম থেকে শীপে করে

এদের বিস্তারিত বলার চেষ্টা করছি।

সবাই যখন সাজেক, সিলেট, কক্সবাজার নিয়ে ব্যস্ত তখন আমি আসলাম নিঝুমদ্বীপ নিয়ে

১ঃ বাসে/ট্রেনে করে নোয়াখালী হয়ে নিঝুমদ্বীপঃ

বাসে করে গেলে নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত যেতে হবে । হিমাচল এক্সপ্রেস, একুশে এক্সপ্রেস, মুনলাইন এন্টারপ্রাইজ এর বাস নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত যায় । প্রতিদিন মোটামুটি সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা, রাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে নোয়াখালী সোনাপুর এর বাস ছেড়ে যায় । আবার ধানমন্ডি জিগাতলা/উওরা/গাজীপুর থেকে নোয়াখালীর বাস পাবেন একি দামে ডিরেক্ট সোনাপুর জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত।

বাস ভাড়াঃ নন এসি ৩৫০টাকা এবং এসি ৪০০টাকা।

নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে সিএনজি করে চেয়ারম্যান ঘাটে আসতে হবে, রিসার্ভ ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকা (৫ জন) । চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পীড বোট ছাড়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ।

১:সি-ট্রাক ভাড়া একজন ৯০টাকা (সময় লাগবে ২ ঘন্টা)

//নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাটে সি-ট্রাক ছাড়ে প্রতিদিন সকাল ৮টায়, নলচিরা থেকে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট যাওয়ার ফিরতি সী ট্রাক ছাড়ে সকাল ১০টায় । সি ট্রাকের টিকেট ঘাটেই লাইন ধরে কাটতে হয়, টিকেট আগে কেটে আগে উঠতে পারলে ভিতরে বসার জায়গা পাবেন, তবে আগে উঠার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন//

২:ট্রলার ভাড়া একজন ১২০-১৫০টাকা (সময় লাগবে ২ ঘণ্টা)

৩: স্পীড বোট ভাড়া একজন ৪০০টাকা (সময় লাগবে ২০ মিনিট)

যাত্রীদেরকে নামাবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে, নলচিরা থেকে মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে যেতে হবে মোক্তারিয়া ঘাট (ভাড়া দুইজন ৪০০-৪৫০টাকা)।

এই ছাড়াও লেগুনা, সি,এন,জি টেম্পু আছে।

১: লেগুনা ভাড়া-৮০ টাকা

২: সি,এন,জি-৫০০-৬০০ টাকা ৫ জন

৩: টেম্পু- ৫০০-৭০০ টাকা ৫ জন(অত্যাধিক আওয়াজ এবং সময় সাপেক্ষ)

মোক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে ১০ মিনিট লাগবে নিঝুমদ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে (ভাড়া একজন ২২টাকা)। এরপর বন্দরটিলা ঘাট থেকে মোটরসাইকেল করে নামার বাজার যেতে হবে, ভাড়া দুইজন ১০০ টাকা।

@@ট্রেনের ভাড়া এবং সিডিউলঃ

ট্রেনে করে গেলে নোয়াখালীর মাইজদি পর্যন্ত যেতে হবে । ঢাকার কমলাপুর থেকে বৃহস্পতিবার বাদে, প্রতিদিন বিকাল ৪.২০ মিনিটে ৭১২নং আন্তঃনগর উপকুল এক্সপ্রেস নোয়াখালী এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, নোয়াখালীর মাইজদি পৌঁছে রাত ১০.২০ মিনিট। ট্রেন ভাড়াঃ স্নিগ্ধা-৫০৩টাকা, প্রথম চেয়ার-৩৫৫টাকা, শোভন চেয়ার-২৭০টাকা, শোভন-২৩০টাকা।

মাইজদী স্টেশনে নামবেন রাতে সো ওখানে রাতে থেকে সকালে সোনাপুর জিরো পয়েন্ট আসবেন এবং আগের মত যাবেন নিঝুমদ্বীপ।

৩ঃ ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে হাতিয়া হয়ে নিঝুমদ্বীপঃ

ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ১ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে। দুইটা লঞ্চ রোটেশন পদ্ধতিতে ডেইলি ১ টা করে ছেড়ে যায় । একটি “এম.ভি. ফারহান-৩” এবং অন্যটা “এম.ভি. ফারহান-৪” । দুটাই লাক্সারিয়াস লঞ্চ । প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ মিনিটে ছেড়ে যায় । হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৮.০০-৮.৩০টার মধ্যে । আপনাকে নামতে হবে হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে । (তমুরদ্দী ঘাট থেকে ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর ১২.৩০টায়)।

লঞ্চ ভাড়াঃ (ঢাকা থেকে হাতিয়ার তমুরদ্দীঘাট)
ডেক-৩৫০টাকা, সিঙ্গেল কেবিন-১২০০টাকা, ডাবল কেবিন-২২০০টাকা

*** কোন কারনে এম.ভি. ফারহান ৩ অথবা এম.ভি. ফারহান ৪ লঞ্চ মিস করলে বিকাল ৬.৩০ মিনিটে এম.ভি. টিপু-৫ অথবা এম.ভি. পানামা লঞ্চে করে তজুমদ্দিন অথবা মনপুরা ঘাটে নেমে গিয়ে এম.ভি. ফারহান ৩/৪ লঞ্চ ধরতে পারবেন অথবা মনপুরা থেকে ট্রলারে হাতিয়ার তমুরুদ্দি ঘাটে যেতে পারবেন।

*** বিশেষ কারনে যদি এই দুটোও অর্থাৎ এম.ভি. টিপু-৫ এবং এম.ভি. পানামা লঞ্চও মিস করেন তবে বিকাল ৬.৩০ মিনিট (তবে এরা ছাড়তে একটু লেট করে) এম.ভি. ফারহান-৫ অথবা ফারহান-৬ লঞ্চ এ করে তজুমুদ্দিন ঘাটে গিয়ে এম.ভি. ফারহান-৩/৪ লঞ্চ ধরতে পারবেন অথবা তজুমুদ্দিন ঘাট থেকে ট্রলারে করে হাতিয়ার তমুরুদ্দি ঘাটে যেতে পারবেন।

** এম.ভি. ফারহান-৩ লঞ্চ এবং এম.ভি. ফারহান-৪ লঞ্চ এর রুটঃ
কালিগঞ্জ(মেহেন্দীগঞ্জ)-বিশ্বরোড(ভোলা)-দৌলতখাঁ(ভোলা)-মির্জাকালু-শরাশগঞ্জ-ভোলা তজুমুদ্দিন-মনপুরা(রামনেওয়াজ ঘাট)

** এম.ভি. টিপু-৫ লঞ্চ এবং এম.ভি. পানামা লঞ্চ এর রুটঃ
ঢাকা-চাঁদপুর-কালিগঞ্জ(মেহেন্দীগঞ্জ)-বিশ্বরোড(ভোলা)-দৌলতখাঁ(ভোলা)-মির্জাকালু-শরাশগঞ্জ-ভোলা তজুমুদ্দিন-মনপুরা(রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট) ও মনপুরা হাজিরহাট লঞ্চঘাট।

** এম.ভি. ফারহান-৬ লঞ্চ এবং এম.ভি. ফারহান-৫ লঞ্চ এর রুটঃ
ঢাকা-ফতুল্লা-কালিগঞ্জ(মেহেন্দীগঞ্জ)- বিশ্বরোড(ভোলা)-দৌলতখাঁ(ভোলা)-মির্জাকালু-শরাশগঞ্জ-ভোলা তজুমুদ্দিন-শরশী সী-ট্রাক ঘাট-মঙ্গল শিকদার-বেতুয়া(চরফ্যাশন)

এই ৬টি লঞ্চ একি মালিকের । যে কোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
এম.ভি. ফারহান ৩ – ০১৭৮৫৬৩০৩৬৫, ০১৭৮৫৬৩০৩৬৬, ০১৭৮৫৬৩০৩৬৭
এম.ভি. ফারহান ৪ – ০১৭৮৫৬৩০৩৬৮, ০১৭৮৫৬৩০৩৬৯, ০১৭৮৫৬৩০৩৭০

লঞ্চ থেকে নামবেন হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে । তমুরদ্দী ঘাট মোটরসাইকেল করে মোক্তারিয়া ঘাটে যেতে হবে , ভাড়া দুইজন ৩০০-৩৫০টাকা (সময় লাগবে ১ ঘন্টা) ।

অথবা
তমুরদ্দী ঘাট থেকে রিক্সা নিয়ে চলে যেতে হবে বেঁকের বাজার, ভাড়া নিবে ২০ টাকা। ওখান থেকে ৩০ মিনিট পর পর চান্দের গাড়ি যায় মোক্তারিয়া ঘাট, জনপ্রতি ৮০-১০০ টাকা নিবে।

মোক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে নিঝুমদ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে ,ভাড়া একজন ২২ টাকা (সময় লাগবে ১০ মিনিট) । এরপর বন্দরটিলা ঘাট থেকে মোটরসাইকেল করে নামার বাজার যেতে হবে, ভাড়া দুইজন ১০০ টাকা (সময় লাগবে ৩০ মিনিট)।

ভাগ্য ভালো থাকলে আপনি ট্রলারে করেও মেঘনা নদীর বুক চিরে সরাসরি নিঝুমদ্বীপ নামার বাজার যেতে পারেন । সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগবে । প্রতিদিন সকাল ১০টায় তমুরদ্দী ঘাট থেকে ফিশিং ট্রলার সরাসরি নিঝুমদ্বীপের নামার বাজার যায়, ভাড়া একজন ২০০-৩০০টাকা । এছাড়া আপনি ট্রলার রিজার্ভ করেও যেতে পারেন নিঝুমদ্বীপের নামার বাজার (ভাড়া ট্রলার সাইজ অনুযায়ী ৩৫০০-৫০০০টাকা)।

০৪# চট্রগাম সদরঘাট থেকে লঞ্চে হাতিয়া হয়ে নিঝুমদ্বীপঃ
চট্টগ্রাম সদর ঘাট থেকে হাতিয়াগামী জাহাজে উঠে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নামতে হবে । বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে সপ্তাহে তিন দিন B.I.W.T.A. এর স্টীমার এম.ভি.বার আউলিয়া এমভি আব্দুল মতিন এবং এম.বি মনিরুল হক হাতিয়া নলচিরা ঘাট পর্যন্ত চলাচল করে । এ সকল স্টীমার চট্টগ্রামের সদর ঘাট থেকে সকাল ৯টা যাত্রা শুরু করে একই দিন বিকাল ৩-৪ টার মধ্যে নলচিরা ঘাট পোঁছে। মাঝেমাঝে ৬-৭ টাও বাজে। আমার মতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সকল খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘাটে পৌছায় না।

এ ভ্রমণে একই সাথে বঙ্গোপসাগর ভ্রমণ এবং সন্দীপ ও হাতিয়া দেখা হয়ে যাবে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে কিছুটা রোলিং হয় কিন্তু এ ভ্রমণটা ১০০% নিরাপদ । প্রতিদিন সকাল ৯টায় দুই পাশ থেকেই দুইটা লঞ্চ ছেড়ে যায় (শুক্রবার ও রবিবার বাদে)।

হাতিয়া ভাড়াঃ প্রথম শ্রেনী (২২১৫টাকা) / দ্বিতীয় শ্রেনী (১১১০টাকা) / চেয়ার ক্লাস (৩৫০টাকা)
সন্দীপ ভাড়াঃ প্রথম শ্রেনী (১২০০টাকা) / দ্বিতীয় শ্রেনী (৬২০টাকা) / চেয়ার ক্লাস (২৩০টাকা)

নলচিরা ঘাটে নেমে আগের মত নিঝুমদ্বীপ যাইতে হবে।

কিছু অভিজ্ঞতাঃ

১: কোথায় ক্যাম্পিং করবেন?

নামার বাজার বীচ। অবশ্যই স্থানীয় কাউকে জানিয়ে যাবেন অথবা পুলিশকে অবগত করবেন।

২: হোটেল নিবেন কই?

নামার বাজার

৩: খাবেন কই?

নামার বাজার অবশ্যই। আড়ৎ আছে। ওখান থেকে ইলিশ মাছ কিনেও খাইতেও পারেন।

৪: যারা ধূমপান করেন। তাদের জন্যও দুঃসংবাদ। নিঝুম দ্বীপে মেরেজ সিগারেট ছাড়া আর অন্য ব্র্যান্ডের সিগারেট পাওয়া যাবে না না না। বন্দরটিলা বাজারে পাবেন ভালো সিগারেট।

৫: চোখের সামনে পর্যটক সংখ্যা বেশি দেখলেই ওরা রুম রেট বাড়িয়ে ফেলে। তাই বড় দলের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে, দলের সবাইকে চায়ের দোকানে বসিয়ে দলের সবাইকে ৫জনের ছোট ছোট দলে ভেঙ্গে প্রতি দলের এক/দুইজনকে গিয়ে আলাদা ভাবে কিছুক্ষন পর পর গিয়ে হোটেল ঠিক করতে। তাতে করে হোটেল কর্মচারীরা পর্যটকের চাপ সচক্ষে দেখতে পারবে না। এটা আমার বাক্তিগত মতামত। কেউ চাইলে ভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে পারে।

৬: খাবারের মূল্য তালিকা হল,
লাঞ্চ এবং ডিনারে; সবজি ১৫ টাকা, ডাল ফ্রি, ইলিশ ৬০টাকা , মুরগি৬০ টাকা, চিংড়ি ৫০টাকা আর ভাত জনপ্রতি ২০টাকা।
নাস্তায়; লুচি৫টাকা, চা ৫টাকা, হালুয়া ১০টাকা, ভাজি ১০টাকা, দই ২৫টাকা।

৭: নিঝুম দ্বীপ গেলে অবশ্যই সেখানকার দই টেস্ট করতে বলবো। সেখানের দই সাধারণত তৈরি হয় মহিষের দুধ দিয়ে। তবে দই পরিপূর্ণ জমাট বাঁধার পরই টেস্ট করবেন। জমাট না বাঁধা অসম্পূর্ণ গুলো টেস্ট করলে কোন স্বাদই পাবেন না, বরং বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে।
নিঝুম দ্বীপের বাজারে খাঁটি মধু পাওয়া যায়। বনের মৌচাক হতে সংগ্রহ করা খাঁটি মধু।

৮: নিঝুম দ্বীপে এখনো বিদ্যুৎ এসে পৌঁছায়নি। বেশির ভাগ বাসা বাড়িতেই সোলার। হোটেলগুলোতে রাতের বেলা ২ঘন্টার জন্য জেনারেটর ছাড়ে কিন্তু তাতেও ভোল্টেজের জোর খুব কম থাকে। মোবাইল/ক্যামেরা চার্জ দিতে চাইলে নামার বাজারেই একটা মোবাইল/ক্যামেরা চার্জের দোকান আছে। ফুল চার্জ করে নিতে; দিতে হবে মাত্র ৫টাকা। তবে চার্জ হতে বেশ সময় লাগে। সোলারে চার্জ হওয়া বলে কথা। বিশেষ করে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ হতে অনেক সময় লাগে।
নিঝুম দ্বীপের শিশু কিশোরদের মধ্যে বেশ দুরন্তপনা ভাব আছে। সারাদিন হৈ হুল্লোড়ে মেতে থাকে। দল ধরে সবাই কাঁকড়া ধরতে যায়। বড় বড় কাঁকড়া ধরে আড়তে প্রতি পিস ৪০/৫০টাকা দরে বিক্রি করে দেয়। এরা ছোট বড় ক্যামেরা দেখলে হাসি মুখে ছুটে আসে ছবি তুলতে।

৯: বিকাল টাইম টা হরিণ দেখার জন্য বেস্ট টাইম। চাইলে একটা ছোট ট্রলার ভাড়া করে নিয়ে চলে যেতে পারেন চৌধুরী খালে। সেখানে নেমে পায়ে হেঁটে গহীন বনের ভিতর ঢুকে একটা মিঠা পানির পুকুর আছে। সেখানে হরিণরা সাধারণত বিকাল সময়ে পানি খেতে আসে। সেই সময় হরিণ দেখার সম্ভাবনা থাকে। চাইলে পায়ে হেটেও যেতে পারেন। তবে মাঝে বেশ কয়েকটি খাল পার হতে হবে। সাঁতার না জানা থাকলে ভুলেও খাল পার হতে যাবেন না। খালের মাঝের কাঁদা খুবই নরম। চোরা গর্তে দেবে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খালের পাশেও বেশ নরম কাঁদা। হাটু থেকে কোমর সমান দেবে যেতে পারে। তাই খালি পায়ে খাল পার হবেন না, হলে স্যান্ডেল কাঁদায় আটকে যেতে পারে।

জঙ্গলের ভিতর গাছের শ্বাসমূল কাঁটার মত মাটি ভেদ করে বের হয়ে থাকে। কাঁচা শ্বাসমূল গুলো বেশ ধারালো এবং তখন এগুলায় হাত/পা লেগে জখম হতে পারেন।

১০: স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম, নিঝুম দ্বীপ আগের থেকে বেশ উন্নত হয়ে গেছে। এখানে এখন কোন ডাকাত কিংবা জলদস্যুদের উৎপাত নেই। আমরা রাত ৯/১০টা পর্যন্ত নির্জন বীচে হেঁটে বেড়িয়েছি। কোন সমস্যা হয়নি।

১১: লঞ্চ ভ্রমণে মালামাল নিজ দায়িত্তে রাখুন। পরিবার সহ গেলে কেবিন নিয়ে নিতে পারেন। ডবল কেবিন-২২০০ টাকা।

১২: সাঁতার না জানলে সাথে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাবেন।

১৩: নিঝুম দ্বীপের বনের মধ্যে অবস্থানকালীন সময়ে বনের ভিতর ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। গাছের পাতা, ডাল পালা ছিঁড়বেন না।

১৪: বন্য পশু পাখিদের উক্তক্ত করবেন না।

১৫: স্থানীয় মানুষের সাথে অশোভন আচরণ করবেন না।

১৬: সি.এন.জি/বাইক ভাড়া করার ক্ষেত্রে ঠিক মত দাম করে নিন। আপনি কোথায় ঘুরবেন, কতখন ঘুরবেন সেটাও আগে বলে নিন।

১৭: হোটেলে আপনার মালা মাল ঠিক ভাবে হিসাব করে রাখুন। বাইরে যাওয়ার সময়, দরজা জানালা ঠিক মত লক করে যান। চেক আউট করার সময় আপনার মালা মাল সব ঠিক আছে কিনা হিসাব করে মিলিয়ে নিন। প্রয়োজনে খাটের নিচেও চেক করতে ভুলবেন না।

১৮: ফার্স্ট এইড কিট, প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখতে পারেন।

১৯:নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান এলাকায় ভ্রমণ করার জন্য ৪০ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ফাইবার বোট ভাড়া দেওয়া হয়। যোগাযোগঃ আলতাব হোসেন (মাঝি) যোগাযোগঃ ০১৭৭৭১১৫৪৬৩ এবং ০১৭৫৮৮৯৩১৫।

কোথায় কোথায় যাবেনঃ

১. কমলার দ্বীপঃ সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও আশে পাশের দ্বীপগুলো সুন্দর। পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে আশা যায়, মন ভরে যাবে।

২. চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চরঃ যেতে হবে বিকেলে সন্ধ্যার আগে, চৌধুরীর খাল নেমে ঘন্টা খানেক হাঁটলেই বনের মধ্যে হরিণ পালের দেখা পেতে পারেন। একটা ট্রলার রিজার্ভ নিন ১০-১৫ জনের গ্রুপ এর জন্য ১০০০-১৫০০টাকা নিবে । ওরাই হরিন দেখিয়ে আনবে, সন্ধ্যার সময় কবিরাজের চরে নেমে সূর্যাস্ত ও হাজার হাজার মহিষের পাল দেখতে ভুলবেন না।

৩. চোয়াখালি ফরেস্ট ও চোয়াখালি সী-বিচঃ চোয়াখালিতে গেলে খুব সকালে হরিণ দেখা যাবে । মোটরসাইকেলকে আগের রাতেই বলে রাখুন, খুব সকালে আপনাকে যাবে চোয়াখালি ফরেস্টে । ভাড়া নিবে দুইজন ১০০-১২০ টাকা । সেখানে ঐ এলাকার ছোট ছেলেরা আপনাকে বনের ভিতরে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে, তারাই হরিণ দেখিয়ে আনবে । দেখা শেষে খুশি হয়ে তাদের কিছু টাকা দিলেই তারা খুশি।

৪. ম্যানগ্রোভ বনঃ নিঝুমদ্বীপ বনায়ন প্রকল্প । নিঝুম দিপে ছোট ছোট ছেলেরা গাইডের কাজ করে, এদের সাথে নিয়ে সকাল বেলায় বনের ভেতর ঢুকে পড়ুন । হরিন দেখতে পারবেন।

৫. নামার বাজার ও নামার বাজার সী-বিচঃ নামার বাজার ফরেস্ট অফিসের সামনে ৪/৫ পিস পালা হরিণ দেখতে পারবেন । বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বিচে যেতে সময় লাগবে ১০ মিনিট । এখান থেকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন, এখানে বারবিকিউ করে মজা পাবেন । ফরেস্ট অফিসের পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে, সেখান থেকে পুরা এলাকা দেখতে পারবেন।

৬. দমার চরঃ এই চরের দক্ষিন দিকে নতুন একটা সী বিচ আছে যাকে বলে “ভার্জিন আইসল্যান্ড” । এখানে অনেক নাম নাজানা পাখির দেখা পাবেন যদি খুব সকালে যান। অনেক টুরিস্টদের কাছে এখনও অজানা এই জায়গাটা । ট্রলার ভাড়া ৩০০০-৩৫০০ টাকা । ট্রলার এর মাঝির নম্বরঃ জাকির (০১৭৮৭৬০৫৪৪৪) (ভালো মানুষ তবে ভাড়া একটু বেশি চায়)।

আমার মতে আসার সময় লঞ্চ এ আসা উচিৎ যাওয়ার সময় নোয়াখালী হয়ে যাওয়া উচিৎ।

এতে করে নোয়াখালী শহরটা দেখা হবে, ভালো একটা খাওয়া খেতে পারবেন এবং সময়টাও সেইফ হবে।

যাওয়ার দিন সন্ধ্যার মধ্যে মাইজদী পৌছাইলে রাত ১০ টা পর্যন্ত ঘুরাঘুরি করতে পারবেন।

টোটাল খরচঃ

ভাড়া বাবদঃ

লঞ্চ-হাতিয়া-লঞ্চ-১: ৩৫০ (লঞ্চ)+৩০০ (হুন্ডা/ট্রলার)+৩০০ (নিঝুমদ্বীপে ঘুরাঘুরি) +(৩০০+৩৫০) আসার সময়ঃ ১৬০০ টাকা

লঞ্চ-হাতিয়া-ট্রলার-বাস-২: ৩৫০(লঞ্চ)+ ৩০০( হুন্ডা/ট্রলার)+ ৩০০-৪০০( নিঝুমদ্বীপে ঘুরাঘুরি)+৩০০(নলচিরা ঘাট)+১০০( ট্রলার ভাড়াঃচেয়ারম্যানঘাট)+৬০( বাস ভাড়াঃসোনাপুর)+ ৩৫০( ঢাকা): ১৮০০ টাকা

খাওয়া বাবদঃ ৭ বেলা- ৭০০-৮০০ টাকা

থাকা বাবদঃ একদিন ২০০-৩০০ টাকা

টোটালঃ ২৪০০-২৭০০ এর মধ্যে হয়ে যাবে।

এই পোস্ট ম্যাক্সিমাম জিনিস সংগ্রহ করা বিভিন্ন জনের পোস্ট থেকে, বিভিন্ন ছবি ও সংগ্রহ করা হয়েছে।

কেউ নিজের কিছু মিল পেলে গালি না দিয়ে যদি চান ক্রেডিট আদায় করে নিয়েন।

।। পরিবেশ রক্ষা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব, ঘুরতে গিয়ে এখানে সেখানে ময়লা,আবর্জনা তো ফেলবেন ই না বরং এলাকার মানুষজন কে বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন তারাও যাতে ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য কোন ব্যবস্থা রাখে এবং নিজেরাও ফলো করে।।

Loading...