শিশু গৃহকর্মী লামিয়াকে খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন !

শিশু গৃহকর্মী লামিয়াকে খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন !
Loading...

বাসাবাড়িতে কাজের লোক থাকে এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু সেই গৃহকর্মী হন নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার ।এমনি এক শিশু গৃহকর্মী লামিয়ার উপর চালানো হলো নির্মম নির্যাতন ।

বরিশালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর নোয়াপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র রিক্সাচালক মো. ইকবাল সরদারের ৯ বছর বয়সের শিশু লামিয়া আক্তার পেটের ক্ষুধায় ৬ মাস আগে বরিশাল নগরীতে আসে। মাতৃহীন লামিয়া কাজ পায় নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর মদিনা সড়কের আকাশ মঞ্জিলের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া শারমিন-আশরাফ দম্পতির বাসায়। প্রথম প্রথম বেশ যত্ন পায় লামিয়া। এরপরই কাজে সামান্য ত্রুটি পেলেই তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, বেলন দিয়ে পিটানি, দেয়ালে আছড়ানো, হাত ভেঙে ফেলা, চোখ ওপরে ফেলার চেষ্টাসহ নির্মম নির্যাতন চলে ওই শিশুটির ওপর।

প্রতিরাতে শিশু লামিয়ার কান্না ও চিৎকার শুনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি উড়ো চিঠিতে বিষয়টি নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পৌঁছায়। এরপর গত সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশু গৃহকর্মী লামিয়াকে উদ্ধার করে। পুলিশ দেখেই লামিয়ার আর্তনাদ ছিলো, ‘আমাকে বাঁচান’।

গৃহকর্তা আর গৃহকর্ত্রীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী লামিয়াকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ওই শিশুর সারা শরীর, মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ গৃহকর্তী শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর পালিয়েছে গৃহকর্তা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী।

শিশুটির নির্যাতনের বিভীষিকা দেখে অভিযুক্তর বিচার দাবি করেন অভিযানে অংশ নেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের নারী সদস্য ফারজানা আক্তারও। তাছাড়া এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন শিশু লামিয়ার স্বজনরা।

এ ঘটনায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ইউনুস আলী ফরাজী বাদী হয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানায় মানব পাঁচার ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের সহকারি কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক।

Loading...