মানবঢালে সেদিন বেঁচে যান শেখ হাসিনা

মানবঢালে সেদিন বেঁচে যান শেখ হাসিনা
Loading...

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বিকেলে অস্থায়ী ট্রাকে বানানো মঞ্চে শেখ হাসিনার বক্তৃতার একেবারে শেষ পর্যায়ে একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে থাকে। হঠাৎ বোমা হামলার মুখে প্রাণ তুচ্ছ করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী আর দলীয় নেতা-কর্মীরা মানবঢাল তৈরি করেন। তাদের সেই মানবঢালেই সেদিন বেঁচে যায় বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রাণ।

ওই হামলার সময় তাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে বুলেট প্রুফ গাড়িতে তুলে দেন তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর শোয়েব মো. তারিকুল্লাহ, যারা এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্লিন্টার।

আবদুল্লাহ আল মামুন সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, বক্তৃতার শেষের দিকে শেখ হাসিনার কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। টেবিলটার ঠিক কোণায় পৌঁছাতেই প্রথম গ্রেনেড ফাটে। এর পরপরই আরও তিনটি বিস্ফোরণ হয়। চারদিকে ধোঁয়ায় আছন্ন হয়ে যায়। সে সময় নেত্রীর পাশে শুধু তিনি আর মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন। হানিফ নেত্রীকে বসানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনিও বসতে অনুরোধ করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা বসতে চাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে তাকে প্রায় জোর করে বসানো হয়। এর মধ্যে ট্রাকের আশপাশে আরো তিনটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়।

হঠাৎ ট্রাকের পেছনের ডালায় একটা গ্রেনেড এসে বাড়ি খেয়ে পাশেই বিস্ফোরিত হয়। ট্রাকের তেলের ট্যাংক ফুটো হয়ে যায়।

তবে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মধ্যেই নেতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি করেন মানবঢাল। মামুন, মোহাম্মদ হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন মায়া, নজিবউদ্দিন আহমদ (শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই) তাকে ঘিরে ধরেন।

এ সময় আহতদের ছেড়ে শেখ হাসিনা যেতে চাইছিলেন না। তবু নেতাকর্মীরা প্রায় জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে দেয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে সুধা সদনে নিয়ে যাওয়া হয় গাড়িটি।

Loading...