বলি হতে পারে গুগল ও ফেসবুক

বলি হতে পারে গুগল ও ফেসবুক
Loading...

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমেই খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। বৃহৎ অর্থনীতির দেশ দুটির চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনা নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা যেসব মার্কিন কোম্পানি চীনা সরঞ্জাম ক্রয় করে তাদের ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিএনএন মানি।

গুগল, ফেসবুক এবং ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনসহ সিলিকন ভ্যালির কয়েক ডজন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং কার্যক্রম পরিচালনায় চীনা নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এতদিন একতরফা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুক্তভোগী হলেও ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব এখন সিলিকন ভ্যালিতে পৌঁছেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি চীনা সরঞ্জামের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে ব্যবসায় ঝুঁকিতে পড়বে ইন্টেল করপোরেশনসহ বাকি সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতারাও। কারণ চিপ সংযোজন, পরীক্ষা এবং প্যাকেজিংয়ের জন্য ইন্টেল চীনের ওপর নির্ভরশীল।

ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম এবং ডিভাইস নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায় ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবমুক্ত থাকলেও এখন তা সিলিকন ভ্যালি পর্যন্ত পৌঁছতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সিলিকন ভ্যালির টেক নের্তৃত্বকে সোচ্চার হতে বাধ্য করবে।

জিবিএইচ ইনসাইটসের প্রধান স্ট্র্যাটেজি কর্মকর্তা এবং টেকনোলজি রিসার্চ বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল আইভস বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে কোনো ধরনের প্রযুক্তি সরঞ্জামে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস্তবে শুল্ক আরোপ করা হলে তা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর বাস্তবতা হবে।

তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয়ভাবে পণ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে বাধ্য করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি জায়ান্টরা বলে আসছে, এ বিষয়ে তারা আন্তরিক হলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। কারণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও নকশা ব্যবহার করে চুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও সংযোজনের একটি বড় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে চীন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ আগস্টের পর ২০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্কিং মডেম এবং রাউটার ডিভাইস। চীন থেকে আমদানি প্রযুক্তিপণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে প্রযুক্তি শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরের আইটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী পণ্য এবং সেবা সরবরাহ করছে, তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স নিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক বাণিজ্য গবেষণা কোম্পানি প্যানজিভার তথ্যমতে, গত এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আইটি নেটওয়ার্ক গিয়ার আমদানি ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেকই আমদানি করা হয়েছে চীন থেকে।

প্যানজিভা রিসার্চের বিশ্লেষক ক্রিস রজার্স বলেন, সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে ব্যবসায় ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প হিসেবে চীনের বাইরের পণ্য সরবরাহকারী খুঁজতে হতে পারে। এছাড়া বেশকিছু চীনা নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদন কার্যক্রম অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করতে হতে পারে। চীন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম ভিয়েতনাম বা মালয়েশিয়ায় সরিয়ে নেয়া হতে পারে।

ড্যানিয়েল আইভস বলেন, চীনা প্রযুক্তি সরঞ্জামে শুল্ক আরোপের ফলে বেশকিছু পণ্যের মূল্য বাড়বে। চীনা নেটওয়ার্ক গিয়ারের সাময়িক মূল্য বৃদ্ধিতে অ্যামাজন, ফেসবুক কিংবা গুগলের কার্যক্রমে খুব বেশি প্রভাব না পড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খল নষ্ট হয়ে যাবে। এর ফলে নতুন পণ্য উন্নয়ন ও উন্মোচনে দেরি হবে, যা তাদের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দেখা দেবে।

গত জুনে ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সিলিকন ভ্যালির চিপ নির্মাতারা।

Loading...