নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট
Loading...

নির্বাচনকালীন সরকার – আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বিতীয় দফা সংলাপে টানা তিন ঘণ্টা আলোচনা করেছেন ১৪ দল ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। দু’পক্ষের নেতারা মধ্যকার বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে চার দফা প্রস্তাবসহ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়।

তাদের চার প্রস্তাবের মধ্যে ছিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন। তিন নম্বর প্রস্তাবের কয়েকটি উপ-ধারার প্রথমটি ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।

বুধবার (৭ সভেম্বর) গণভবনে সংলাপে বসে ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনকালীন প্রস্তাবিত সরকারে একজন প্রধান উপদেষ্টা ও ১০ জন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রাখার প্রস্তাব দেয়। এ সময় লিখিত ওই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেয় সরকার।

এ বিষয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁরা (ঐক্যফ্রন্ট) বলেছেন, ‘একজন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ১০ জন উপদেষ্টা।’ এটা তো পরবর্তী ৯০ দিন। এটা মেনে নেয়া কোন কারণ নেই, এটা সংবিধানসম্মত নয়।’

ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, এটা সংবিধানসম্মত নয়। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংসদ ভেঙে দেয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।

তবে তাদের সাত দফা দাবির বেশ কিছু দাবি মানা হয়েছে জানিয়ে সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপ ব্যর্থ বলে আমি মনে করি না। আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে, আলোচনায় কোন ধরনের আনপ্লেজেনড কিছু ঘটেনি। নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে, এর মধ্যে আলোচনাও চলবে। তবে ডায়ালগ শেষ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনে প্লেয়িং লেভেল ফিল্ড, সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা, প্রকৃত রাজবন্দিদের মুক্তির বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কোন কথা বলেননি।

পরবর্তীতে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠক করেন। গণমাধ্যমের সামনে সংলাপের বিষয়ে তারা বলেছেন, সাত দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন এবং আলোচনা দুটিই চলবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে কর্মসূচিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট। তবে পূর্বঘোষিত রাজশাহী অভিমুখী রোডমার্চ স্থগিত করা হয়েছে। তবে সেখানে জনসভা করবে ঐক্যফ্রন্ট।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংলাপের পর তারা এখন জনগণের কাছে যাচ্ছেন। দাবি আদায়ে জনগণই এখন করণীয় ঠিক করবে।

এর আগে সংলাপে অংশ নিতে গণভবনে প্রবেশ করে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দল।

সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা অংশ নেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরাম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

Loading...