দুই ভাই একসঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি

দুই ভাই একসঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি
Loading...

বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এই প্রথম দুই ভাই বিচার অঙ্গনের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে বিগত পাঁচ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এরপর ইতিহাস গড়লেন তারই আপন বড় ভাই বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী। তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে মঙ্গলবার শপথ নিলেন। ফলে এখন থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দুই ভাই একসঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সদ্য নিযুক্ত আপিল বিভাগের তিন বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

এর আগে সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এসময় এজলাস কক্ষে নতুন বিচারপতিদের সংর্বধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আজকে বিচার বিভাগের জন্য স্বরণীয় দিন। সহোদর দুই ভাই বিচার অঙ্গনের সর্বোচ্চ আসনে আসীন হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে লালিত পরিবার থেকে দুই ভাই আপিল বিভাগের বিচারপতি হয়েছেন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী: ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কুষ্টিয়ার সন্তান। তিনি জেলার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আব্দুল গফুর মোল্লা। তিনি ১৯৭২ সালে খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। আইএসসি পাশ করেন ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরার সরকারি পিসি কলেজ থেকে। বিএ পাশ করেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে। এমএ পাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। এলএলবি পাশ করেন ধানমন্ডি ‘ল’ কলেজ থেকে। ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০০১ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী: বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ২৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এলএলবি পাস করে ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া বার এসোসিয়েশনে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮০ সালে তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসে মুন্সেফ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৯ সালে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালে তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন।

Loading...