দিনাজপুর ভ্রমণ

দিনাজপুর ভ্রমণ
Loading...

দিনাজপুর আমি ২য় বার ভ্রমণ করলাম | উত্তরের এই জনপথে আমরা (শেখ সিফাতি ও প্রভাত বাবু) গিয়েছিলাম বেড়ানোর উদ্দেশে |

হুট করেই পরিকল্পনা কোথায় জাওয়া জায়?ভেবে ঠিক করলাম দিনাজপুর ই সবচেয় ভালো হবে, যেহেতু আমরা কুস্টিয়া থাকি তাই কুস্টিয়া থেকে ট্রেনেই আসা ও যাওয়া যাবে!!

কুস্টিয়ার পোড়াদহ স্টেশন থেকে রাতের ট্রেনে (সীমান্ত এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে চিলাহাটি, নীলফামারী) ভেড়ামাড়া, ইশ্বরদী, নাটোর, আক্কেল্পুর, শান্তাহার, জয়পুরহাট, বিরামপুর, হয়ে ফুলবাড়ী স্টেশন এ ভোর ৫.৫০ এ নেমে দারূণ সাদের দুধ চা খেয়েছি দুই কাপ ১০ টাকা |

দিনাজপুর ভ্রমণ

১. স্বপ্নপুরি পার্ক –

ফুলবাড়ী স্টেশন থেকে একটা অটো রিজার্ভ করে, গ্রামের ভিতর দিয়ে অসাধারণ রাস্তা দিয়ে এগিয়ে জাচ্চিলাম গন্তব্যে, মনে হচ্ছিলো একটু দুরেই জেন, আসলে যাবার রাস্তা টা এতোই মনমুগ্ধকর ছিল তাড়াতাড়িই পৌছে গেলাম | জন প্রতি ৫০ টাকা টিকেট কেটে ঢুকে গেস্ট হাউসে গিয়ে ১ টা রুম বুক (ভাড়া নিতে হয়) নিয়ে ফ্রেস হয়ে, ভেতরের রেস্টুরেন্ট টিতে নাস্তা করে নিলাম (রুটি, খিচুড়ি, ডিম, ডাল -১০০+-), দাম বেশ সহনীয় ছিল |

দিনাজপুর ভ্রমণ

এই পার্ক টি ১৯৮৯ সালে স্থাপিত, আসলে বিশাল বললেও ভূল হবে, হেটে সবকিছু ঘুরে দেখতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে, এখান যে কি নেই সেটা খুজে বের করা মুস্কিল | কক্সবাজারে জারা স্পিড বোট এ উঠেন তারা এখানেও চড়তে পারবেন মাত্র ৩০ টাকায় | সবচেয়ে দারুণ দিক হচ্ছে পার্কার ভিতরের রাস্তাগুলো এতো চমৎকার, সাজানো জা আপনার সারা রাতের ভ্রমণ ক্লান্তি দূরকরে দেবে নিশ্চিত |

সবাই মিলে আইস্ক্রিম খেয়ে ঘুরতে ঘুরতে মাছের সম্ভারে ঢুকে গেলা ২০ টাকা টিকেট কেটে, অনেক মৎস্য কন্যা, আর বিশাল আকারের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সামনের দিকে বিশাল একটি পাথুরের পাহাড়ের ঝড়না ও আছে কিন্তু | সেল্ফি প্রেমিক বা গ্রুপ ফটো দুটোর জন্যই এই জায়গা অসাধারণ, ফোনের চারজ ই সেশ হয়ে যাবে নিশ্চিত!!

এখানেই শেস নয়, চিড়িয়াখানা ও কিন্তু রয়েছে, শেসমেস, অনেক কিছু বাকী রেখেই অসাধারণ স্বপ্নপুরি ভ্রমন শেস করে বের হয়ে ওটো নিয়ে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এ চলে আসি | সেখান থেকে বাসে ৫০ টাকায় দিনাজপুরের পলিটেকনিক এর মোড় (৪০ কিমি) সেখান থেকে মালদাপট্টিতে (অনেক হোটেল এই এলাকায় রয়েছে) | হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেস হয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম দিলসাদ হোটেলে , ভালো লেগেছে!!

২. রাম সাগর –

১৭৫০-১৭৫৫ সালে রাজা রামনাথ এই দিঘি খনন করেন, দৈর্ঘ্য -৩৩৯৯ ফুট, প্রস্থ – ৯৯৯ ফুট, জলাভুমি – ৭৮ একর, বনভূমি – ৬৯ একর |
দুপুরের খাবার খেয়ে অটোতে করে চলে গেলাম রামসগর, আসলে কি যে বিশাল সেটা না দেখলে বোঝা যাবে না এর বিশালতা, এরকম দিঘী মানুসের পক্ষে খনন সম্ভব |
মাত্র ৫০ টাকায় ভ্যানে পুরো এলাকাটি ঘুরে দেখি ছিলাম, বেড়ানো শেসে লোকাল চটপটি খেয়েছিলাম!!!

৩.কান্তজীর মন্দির –

আমার দিনাজপুরে জাবার মূল ইচ্ছেই জন্মেছিল কান্তজীর মন্দীর দেখার জন্য, ১৭০০- ১৭৫০ সালের দিকে রাজা প্রাণ নাথ ও প্রিয় নাথ এই মন্দির নিরমাম করেন, জা জা আমাদের দেশের সবচেয়ে ট্যারাকোটা সমৃদ্ধ মন্দির ||
অসাধারণ লাগবে মন্দির ও চত্তরে |

৪. নয়াবাদ মসজিদ –
১৭০০ সালের দিকের মসজিদ এটি, কান্তজীর থেকে ভ্যানে করেই জাওয়া জায়, এমন মসজিদ কুস্টিয়া তে একটা আছে (ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ)

৫. হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রজুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় –
শনিবার গিয়ে দেখি তেমন কেউ না ই, পরে জানলাম শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ, নিরিবিলি ভালোই ঘুরে ছবিতুলে দেখে এলাম, ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে গেলাম ঊটপাখি, প্রভাত বাবুর সে কি আনন্দ!!

৬. সুখ সাগর ও রাজবাড়ী –

রামসাগর এর মত বড় না হলেও সুখ সাগরে আমার বেশি সুখ লেগেছে রামসাগর থেকে, এর পাড়টা অনেক সুন্দর, বসবার ব্যবস্থা করেছে, আরো আধুনিকায়ন এর কাজ চলছে দেখলাম, জারা কিছুদিন পরে জাবেন তাদের আরো ভালো লাগবে, ফেরার পথে বটতলি মোড়ে ২০ টাকার মালাই চা, শুধুমাত্র দুধের সর দিয়ে বানায়, না খেলে মিস করবেন |

৭. বড় মাঠ – বিশাল ঈদগা ময়দান, শুনেছি এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে বড় জামাত??

৮. মোহনপুর রাবার ড্যাম – বাসে করে যাওয়া ও আসার সময় দেখেছি!! সময় থকলে জেতে পারেন, ভালো লাগবে!!

মিস করেছি – ১. বিরলের স্কুল ২. পূনুরভবার পাড়ের প্রমোদতরি

জাওয়া – ঢাকা থেকে অনেক বাস আছে এসি, নন এসি, ট্রেনে একতা এক্সপ্রেস

থাকা – হোটেল মৃগয়া, ইউনিক, আল রসিদ ভাড়া সাধ্যের মধ্যেই!!

বেড়ানো – অটো তে করেই সব জায়গায় জেতে পারবেন বেশ কম খরচে |

খাওয়া –

হোটেল – রুস্তম, দিলসাদ, রোলেক্স, টেস্ট ফাস্ট, দ্যা স্কাই, ইয়াম ইত্যাদি

মিস্টি – পাবনা সুইটস, সানন্দা (আরো থাকতে পারে)

সবশেষ বলবো উত্তরের মানুস গুলো এককথায় অসাধারণ, বেশ সহজ, সাদা!!

ভালো থাকুক উত্তরের এই মানুষ গুলো!!

ভ্রমণে পরিবেশ নোংরা করবেন না, আমাদের সচেতনতাই পারে আমাদের শহর গ্রাম কে পরিচ্ছন্ন রাখতে!!

Loading...