গ ইউনিটে ফেল করেও , রেকর্ড নম্বর পেয়ে ঘ ইউনিটে প্রথম!

গ ইউনিটে ফেল করেও , রেকর্ড নম্বর পেয়ে ঘ ইউনিটে প্রথম!
Loading...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় ঘ ইউনিটে এই পাসের সংখ্যা দ্বিগুণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটায় কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে এই ফল প্রকাশ করেন। এসময় ঘ ইউনিটের সমন্বয়কারী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭০ হাজার ৪৪০জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১৮ হাজার ৪ শ ৬৩জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ২৬.২১শতাংশ।

তবে প্রকাশিত ফলাফলে অবাক করার মত এক ঘটনা ঘটেছে। ঘ ইউনিটের পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে দেখা গেছে এই ইউনিটে সর্বোচ্চ মেধাতালিকায় থাকা একাধিক ভর্তিচ্ছু তাদের নিজের ইউনিটের পরীক্ষায় পাসই করতে পারেননি। অথচ কয়েক দিনের ব্যবধানে আরেক ইউনিটের পরীক্ষায় রীতিমতো ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঘ ইউনিটে মেধাতালিয়ায় ১০০ ক্রমের মধ্যে থাকা ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।

জাহিদ হাসান আকাশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর তিনি ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তির জন্য ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেন। সেখানে ব্যবসায় শাখা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার এই শিক্ষার্থী বাণিজ্য অনুষদে ভর্তির জন্য দেওয়া গ ইউনিটের পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাবির গ ইউনিটের পরীক্ষায় তিনি বাংলায় পেয়েছিলেন ১০.৮ ইংরেজিতে পেয়েছিলেন ২.৪০। অথচ এই শিক্ষার্থী ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭.৩০ পেয়েছেন।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আসা এই শিক্ষার্থী ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ১২০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছিলেন ৩৪.৩২। অথচ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঘ ইউনিটের পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে তিনি ১১৪.৩০ পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকার বাণিজ্য শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০ বছরে ১২০ এর মধ্যে ১১৪.৩০ কেউ পায়নি। এছাড়া ঘ ইউনিটে বাণিজ্য শাখায় যিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন ১২০ এর মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯৮.৪০। মেধাক্রম প্রথম থেকে দ্বিতীয় এর ব্যবধান নজিরবিহীন।

গত শুক্রবার ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। একজন ভর্তিচ্ছুর মেসেঞ্জারে পরীক্ষার পূর্বে ৯টা ১৭ মিনিটে উত্তরসহ পরীক্ষার ৭২টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। এই প্রশ্নের সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

গত তিন বছরে ঘ ইউনিটে পাসের হার পরিসংখ্যান দেখা যায়, ২০১৫-১৬ সেশনে পাসের হার ছিল ৯.৯৪ শতাংশ, ২০১৬-১৭ সেশনে পাসের ছিল ৯.৮৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ সেশনে ঘ ইউনিটে সম্মিলিত পাসের হার ছিল ১৪. ৩৫ ভাগ। কিন্তু ২০১৮-১৯ সেশনে পাসের হার ২৬.২১ শতাংশ। যা অন্যান্য বারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের মধ্যে এত বেশি পাসের হার কি প্রমাণ করে? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, প্রশ্ন তুলন‌ামূলক সহজ হ‌য়ে‌ছে।

Loading...