ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের আগে হঠাৎ বন্ধ হলো বাস

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের আগে হঠাৎ বন্ধ হলো বাস
Loading...

সমাবেশের আগে- রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছেড়ে যায়নি কোনো বাস।

অভিযোগ উঠেছে, ৯ নভেম্বর রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় মহাসমাবেশ ঠেকাতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সরকার সমর্থকরা।

তবে নাটোরে বাস শ্রমিকের ওপর হামলার জেরে কেবল এ রুটেই বাস বন্ধের কথা জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা রয়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করেই হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এর আগে ঐক্যফ্রন্টের জনভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও সিলেটেও একই কাণ্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে বলেও জানান বিএনপি নেতা মিনু।

এদিকে আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী-ঢাকা রুটের সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার বলেন, নাটোরে শ্রমিকদের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার কারণে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাজশাহী থেকে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটসহ অন্য আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

নাটোরের পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। সমস্যার সমাধান হলে আবারও রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল করবে বলে জানান তিনি।

তবে মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবির মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সমাবেশ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু

আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশ। বুধবার সন্ধ্যায় ১২ শর্তে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু সেই সমাবেশ আয়োজনে নানানভাবে পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর মালোপাড়া এলাকার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন মিনু।

তিনি বলেন, সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনসমাগম ঠেকাতে বাস বন্ধ করে দিয়েছে সরকার সমর্থকরা। সেইসঙ্গে পুলিশের অতি উৎসাহী কিছু কর্মকর্তা সমাবেশে নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন।

এর আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাতেও ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ কেন্দ্র করে এমনটি করা হয়েছিল। তবে যেকোনো মূল্য এই সমাবেশ সফল করবে ঐক্যফ্রন্ট।

রাজশাহীর এই সমাবেশ অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, অতীতে বড় বড় নেতাদের বক্তব্য শুনতে মানুষের ঢল নামত। ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশেও তাই হবে। লাখো লাখো মানুষের ঢল নামবে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে।

মিনু আরও বলেন, ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহামুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব, কর্নেল অলি আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থের মতো নেতারা রাজশাহীর সমাবেশে যোগ দেবেন।

এই সমাবেশ থেকে এমন কর্মসূচি আসবে যা দেশের রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে দেবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। এই সমাবেশ থেকেই সরকার পতনে আন্দোলন শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন ঠিক করার ব্যাপারে মিনু বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দেশের জনগণ মানে না। অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে এই কমিশন করা হয়েছে। জনগণকে নিয়ে প্রয়োজনে আবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। জণগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে শুরু করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ গেছে। তবে ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানাননি মিনু।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত, নগরের সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ গোফরান, নগর সম্পাদক মারুফ আহমেদ পিকু, জাসদ নেতা মনির আহমেদ বাবর ও শফিকুল আলম বাবর প্রমুখ।

পুলিশি বাধায় বিএনপির আলোচনা সভা বাতিল

পুলিশি বাধার অভিযোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পূর্বঘোষিত আলোচনা সভা বাতিল করেছে বিএনপি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে এ আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আমাদের পূর্বঘোষিত আলোচনা সভা হওয়ার কথা থাকলে পুলিশ মাইক নিয়ে যায়। এ সময় আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা জিএস বাবুলসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। যে কারণে আলোচনা সভাটি বাতিল করা হয়েছে।’

Loading...