মানসিক সমস্যায় ভুগছে হোয়াইট হাউস: রুহানি

মানসিক সমস্যায় ভুগছে হোয়াইট হাউস: রুহানি

হোয়াইট হাউস মানসিক সমস্যায় ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনিসহ সেনা-কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছে তেহরান।

সোমবার পূর্ব ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘কঠোর’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করাসহ ‘আরও কিছু কারণ’র কথা বলে এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরান আলোচনায় রাজি থাকলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হাসান রুহানি বলেন, আপনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলতে চান যে আপনারা আলোচনায় ইচ্ছুক?’ এর আগে ইরান জানিয়েছিলো, কোনোরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে কূটনৈতিক আলোচনার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গঠিত আন্তর্জাতিক কৌশল ও নিয়ম ভঙ্গ করছে। তবে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জন বোল্টন দাবি করেন, আলোচনার সব দরজা খোলা রেখেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি চান, ইরান তাদের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প বন্ধ করে সন্ত্রাসবাদের সমর্থন থেকে সরে আসুক। তিনি বলেন, এখন শুধু ইরানকে সেই আলোচনার পথে আসতে হবে।  

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু গত বছর ইউরোপীয় মিত্রদের বাধা সত্ত্বেও ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ইরানের তেল রফতানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ধারাবাহিক উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে আরও এক হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরইমধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক’ নামের একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। যদিও ট্রাম্পের দাবি, শুধু ড্রোন ভূপাতিতের কারণেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের দাবি এই নিষেধাজ্ঞায় ইরানের শত শত কোটি ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এর প্রভাব খুব বেশি হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ইরান বিষয়ক সাবেক সমন্বয়ক বিবিসিকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত না যে কতগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে যুক্ত আছে। তবে আমার মনে হয় না ইরানের অর্থনীতিতে এর কোনও প্রভাব পড়বে। ’

Comments

comments