কবি বিকাশ মজুমদারের কবিতা

eyenewsbd.com
ছবিঃ আল- মামুন সানি

কবি বিকাশ মজুমদারের কবিতা

এক

যে ছাগশিশু আবির্ভূত হয়েছে সম্প্রতি,
তার মুখে খবর পেলাম ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী।
সে হিংসার বিষ ছড়াচ্ছে যত্রতত্র,
সালাফি বিশ্বের কাছে ব্যক্ত করে পোশাকের শালীনতা,
সুতীব্র চিৎকারে।
সর্বদা ভয়ে থাকে, তবু উপরে তুলে একটা আঙুল।
ঘোষণা দেয় এক ও অদ্বিতীয় এবং তার কোন শাখা নেই,
কীসব হাবিজাবি ভাষায়।
সে কথা সেমেটিক খরোষ্ঠী,
কেউ শুধু ভয় দেখায়, কেউ নেমে পড়ে রাস্তায়।
আমি কিন্তু বুঝেছি সে দুর্বোধ্য ভাষা,
পেয়েছি নতুন আলামত আসন্ন অন্ধকারের—
নতুন পরিচয় দেখি ছাগশিশুর কালচারাল ডায়াসপোরা চোখে।
এসেছে নতুন ছাগশিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে দুনিয়া,
জীর্ণ সালাফের ব্যর্থতা বাড়াবে আবুল কাশেম ৪৭ হাতে।
থাকতে আসিনি এই বড় বড় বালে ভরা দুনিয়ায়।
চলে যাবো, তবু যতক্ষণ ঘাড়ে আছে মাথা,
প্রাণপণে দেখিয়ে যাবো মগজের বিষ্ঠা।
এ বিশ্ব বাসযোগ্য থাকবে না সে আমি জানি,
শুধু হবে ছাগশিশুর চারণভূমি।
সব ছাগশিশুকে আমার দেহের বিন্দু বিন্দু রক্তে,
করে যাবো আশির্বাদ।
তখন ছাগ রাজত্ব কায়েম হবে।

দুই

তুমিও জানো হারিয়ে গেছি আমি,
এবং একাকী মধুমতীর কিনারে বালি গুনি।
যদি খুঁজে পাও ধরে রাখো শক্ত করে,
তোমাকে প্রয়োজন কালো অন্ধকারে।

দরকার নেই আমাকে তোমার,
সেই ভালো আছি, সময় নেই তোমারও তাকাবার।
খুঁজি আমি একাকী শ্মশান ঘাট,
নদীর তীরে তালগাছের মাঠ।

আমাকে যেতে দাও মুক্তির অন্বেষণে,
ভঙ্গুর, দুর্বল আমি তোমার বিহনে।
স্মৃতি ছাড়া কোথাও নেই তুমি নাই,
আছে শুধু পোড়া কয়লা, পুরনো চাদর আর ভিজে ছাই।

তিন

কী নির্মম মমতায় এই প্রাণিজগৎ,
চারিদিকে খাদ্য খাদক শৃঙ্খল।
বিশাল হাতির কী অসহায় শাবক!
দলছুট হাতিকে একলা পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষুধার্ত সিংহের দল।
হাতি শুঁড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে একটা সিংহকে,
অন্যরা বিপুল উদ্যমে কামড়ায় আচড়ায়।
সমবায়ী প্রচেষ্টায় ধরাশায়ী শক্তিশালী হাতি।
মোটা চামড়া ভেদ করে হৃদপিণ্ডে ঢোকে দাঁত, মাংশে নখ।
রাজকীয় সিংহের বিলাসী ভোজন শেষে উচ্ছিষ্ট খেতে আসে দূরে দাঁড়ানো হায়েনা।
এরপরে পচাগলা মাংশ খেতে আসে আকাশের শকুন, চিল।

Comments

comments