জয় আচার্যী’র ধ্রুবকথন ১: সিগারেটে দ্বিতীয় টান…।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ জয় আচার্যী
জয় আচার্যী’র ধ্রুবকথন ১: সিগারেটে দ্বিতীয় টান…।

চাঁদ তারা নিজেও জানেনা একরাতে এরা কতবার ধর্ষিত হয়। সবার চোখের সামনে নগ্ন হয়ে ওদের নষ্টরূপ  আরও বাড়তে থাকে। চোখ ফেরানো যায়না, নেশা ছুটে না। অমাবস্যা সতীসাধ্বী। কেউ ওর দিকে ফিরেও চায়না। চাঁদের সাথে মিলন শেষে যখন কিছু কিছু মানুষের হতাশা ছাড়া আর কিছুই থাকেনা, তখন তারা ঐ অমাবস্যার কালোতেই গা ঢাকা দিয়ে কাঁদে। অমাবস্যা পরম আদরে সন্তানের মত আগলে ধরে ঐ ছন্নছাড়া ছোড়াকে।

মানুষ! তোর লজ্জা নাই, বোধ নাই। রঙমাখা আদরে আটপৌরে স্নেহকে ভুলে যাস! শেষমেশ কিন্তু ঠিকই ফিরিস স্নেহময়ী, অন্ধ, দরিদ্র একলা দুনিয়ায়।

পা চলে আমার। একটা জ্বলজ্বলে তারা রূপে ভোলাতে চিকচিক করছে। একবার তাকিয়েই ওকে দৃষ্টি দিয়ে লাথি মেরে চলতে লাগলাম। রাস্তার ওপারে পাগলীটা হাসছে আমাকে দেখে। কৌতুক, নাকি বিদ্রুপ সেটা ও নিজেও জানেনা। আমার খুব ভাল লাগে। পিছফিরে চাই। কিন্তু একবারও ওর পাশে বসে হাসতে শুরু করে দেয়ার কথা মাথায় আসেনি। আমি এখনও মানসিকভাবে সুস্থ আছি এই কথার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে! পাগল হওয়া সাধনার কাজ!

মানুষ! তুই বড় সুস্থ! তুই আর পাগল হইলি না। স্বার্থ তোরে পাগল হইতে দিলোনা। স্বার্থের দুনিয়া তোরে হাতকড়া দিয়া বাইন্ধা রাখসে।পাগল হওয়া তোর কাজ না।

রাস্তার ধারে রিকশাওয়ালাদের সাথে বসে ভাত খেলাম। না, মায়ের কথা মনে করতেই চাইনা। ঘরে ফেরার অজুহাত এটা। কোনমতেই না। পেটের ক্ষুধা না থাকলে এত হিংসা, মারামারি, টাকার ওড়াওড়ি থাকতো না। কিন্তু ক্ষুধা আছে। আর মানুষের অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে। এখন মানুষ গলাঅব্দি খেয়েও অন্যের চারটা ভাতের দিকে থাবা মারে! অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে।

মানুষ! তোর আগ্রাসী ক্ষুধা কমলো না। টাকার লাইগা তুই সব করতে পারিস! তুই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হা-ভাতে!

আজন্মপরিচিত সেই ল্যাংড়া ছেলেটা নিঃশব্দে এসে হাত বাড়ালো। আমি জানি টাকা নিয়ে সে গাঁজা খাবে। খাবেই তো! ওর চোদ্দগুষ্ঠির অধিকার আছে গাঁজা টানার। দুনিয়া লালসা নিয়ে ব্যাস্ত, চাঁদতারা ধর্ষণ নিয়ে ব্যাস্ত। সুস্থ মস্তিষ্কে নিয়া ধান্ধাবাজিতে ব্যাস্ত। আর এই ছেলেটা শুধু একটু নেশায় বুঁদ হতে চায়। দিলাম ওকে টাকা। এইসব ফালতু ইমোশন, নিঃশ্বাস কেড়ে নেয়া অনুভূতি- এইসব ছেলেভুলানো খেলা,  অন্যকে ব্যবহার করে নিজেকে সুখি রাখার কূটকৌশল। সামাজিক মানুষগুলা যে কতবড় অসামাজিক সেটা ঐ পাগলীটা বোঝে। তাই সে পাগলী। এই বিকৃত সমাজে বিকৃত সুস্থতাকে কটাক্ষ করে হাসছে বলেই সে পাগলী।

আমি হাত রাখলাম ল্যাংড়া ছেলেটার কাঁধে। বিকৃত সমাজ পেছনে ফেলে। বিকৃত অনুভূতির পাল্লায় পড়ে একদিন সিগারেটে প্রথম টান দিয়েছিলাম। আবেগ আরও ভয়ানক চেহারায় হাজির হয়েছে।

আজ সিগারেটে দ্বিতীয় টান দিলাম। আগের সব মিছে মায়াকে ধোঁয়ায় ঢেকে দিতে।

ঘোলাটে চোখে দেখলাম রাতের চাদরে কুয়াশার সুতা, কিন্তু শীত বাড়ছে নাকি খেয়াল নেই। আমি সেই ফাঁকা রাস্তা ধরে হাঁটছি। আর গলা বেয়ে ঝরছে মুক্তির হাসি। হা হা হা হা হা হা হা হা হা হা ……

দুনিয়া, তুই বড় সুন্দর!

Comments

comments