কাজ করাটাই আমার অক্সিজেন

সাকিব সৈকত

EYE NEWS BD

এই প্রজন্মের জনপ্রিয় তরুণ নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যতিক্রমধর্মী গল্প আর নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

বর্তমান ব্যস্ততা কেমন?
এবারের ব্যস্ততার পুরোটা ঈদের নাটককে ঘিরেই ছিল। ঈদে আমার পরিচালনায় বেশ কিছু নাটক বিভিন্ন টেলিভিশন ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। তাই কিছুদিন থেকেই টানা শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আপাতত একটু বিরতি নিয়ে আবার নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন? 
আলহামদুলিল্লাহ ফিডব্যাক যথেষ্ট পাচ্ছি। নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি সবসময় ভালো কাজ করার, ভালো কিছু দর্শকদের দিতে। সেই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হয়নি এবারের ঈদের কাজগুলোতে। দর্শকদের ভালো লাগাটা আরো ভালো কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আপনার কাজের মধ্যে কোন কাজটি বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা দেয়?
আসলে সেভাবে নির্দিষ্ট কোনো একটি কাজকে বেছে নেওয়া কঠিন। তবুও যদি বলতে হয় তাহলে, ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে প্রকাশ পাওয়া আমার প্রথম নাটক ফ্লাশব্যাক এখনো অনুপ্রাণিত করে। কারণ, কাজটা অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে করতে হয়েছে। অসংখ্য জায়গায় গিয়েও প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। প্রথম কাজটাই আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে শক্ত করে দাঁড়াতে হয়।

কাজ করাটাই আমার অক্সিজেন

তরুণদের সুযোগ দিতে বেশি দেখা যায়, স্পেশাল কোনো কারণ? 
এটা একদম আমার ভালো লাগা থেকেই। দেখবেন আমার প্রথম কাজটাতে বেশির ভাগই তরুণ ছিলেন। এখনো সেটা অব্যাহত আছে। অনেকে হয়তো তরুণদের সুযোগ দিতে আগ্রহী না। শুধু স্টারদের দিয়ে কাজ করিয়ে স্টার হওয়ার ইচ্ছে আমার কোনো দিনই ছিল না। আমি বিশ্বাস করি নতুনদের সুযোগ দিলে ভালো কিছু সৃষ্টি সম্ভব। ওদের মধ্য থেকেই আগামীদিনের স্টার বের হয়ে আসবে। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে অনেক তরুণ দিতে সক্ষম হয়েছেন। সবাইকে সুযোগ করে দেওয়া হয়তো আমি একার পক্ষে সম্ভব হবে না, তবে চেষ্টা করছি। তাছাড়া আমি নিজেও একজন তরুণ নির্মাতা। তাই এই প্রজন্মের আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করতে আমি ভালো অনুভব করি।

একজন নির্মাতা হিসেবে দেশের নাটকের মান কেমন বলে মনে করেন? 
ভালো-খারাপ দুটো দিক আছেই। এত এত কাজের মধ্যে সব যে ভালো হবে তা কিন্তু নয়। এক্ষেত্রে ঢালাওভাবে খারাপ বলে দেওয়া উচিত নয়। যদি এতই খারাপ হয় তাহলে প্রতিটা কাজের এত দর্শক কীভাবে হয়? সমস্যা, সীমাবদ্ধতা সবখানে আছে। তবে সব ঠিকঠাক হবে আমরা আশাবাদী। এজন্য দরকার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তবে সর্বোপরি আমি আমাদের দেশের নাটক সিনেমা নিয়ে আশাবাদী।

ব্যক্তি বান্নাহ সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন… 
সর্বদা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে পছন্দ করি। তরুণদের ভালোবাসি, তাদের পক্ষে থাকতে চাই। কাজের ব্যাপারে আপসহীন। আমার সঙ্গে যারা প্রতিযোগিতা করে কিংবা লড়তে আসে তাদের প্রতি কখনো অবিচার করি না। সততার জায়গা থেকেই কাজ করি, এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ভালোর চেষ্টা তো সবসময় আছে। কাজ নিয়েই আছি, থাকব। কাজ করতে ভালোবাসি। কাজবিহীন বান্নাহকে কল্পনাও করতে পারি না! আমি মনে করি কাজ হচ্ছে আমার অক্সিজেন।

সময় দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। 
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

Comments

comments