কবি বিকাশ মজুমদারের কবিতাত্রয়

ছবিঃ ইশফিয়াক আফ্রিদ

কবি বিকাশ মজুমদারের কবিতাত্রয়

প্রথমঃ

সংখ্যার প্রকাশ ঘটল ছাগল, গরু ও ফসলের গোলা গণনার জন্য।
সেই সংখ্যা হয়ে গেছে পৃথিবীর একমাত্র সর্বজনীন ভাষা।
এখন সব মানুষ সংখ্যায় কথা বলে।
ধনীর সুখ এবং গরীবের দুখ সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ যোগ্য।
এমনকি শান্তি ও সততা সংখ্যার রেখাচিত্র।
সংখ্যা দিয়েছে লিখিত রূপের বৈপ্লবিক ভাষা।
আমি যা লিখি কম্পিউটারে তা আসলে শূন্য আর এক এর বিভিন্ন সমন্বয়।

মানুষ সংখ্যা লিখেছিল তথ্য লিখে রাখতে।
সেই সংখ্যা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে।
যার কাছে যত সংখ্যা তার ততবেশি ক্ষমতা।
লিবিডোর মত নাম্বারেরও আছে তীব্র আকর্ষণ।
আমি এই আকর্ষণের নাম দিয়েছি নাম্বিডো।

দ্বিতীয়ঃ

কিষেণরা যে অ্যাত ধান লাগায়,
স্যাহানেত্তে অ্যাত অ্যাত চাইল অয়, সেসব কহানে যায়?
তাগের ছওয়ালরা না খাইয়ে থাহে,
তাগের মা খালি হাড়িতি ভাতের বদলে পানি জ্বাল দেয়,
ছওয়ালরা কান্তি কান্তি গুমায়ে পড়ে। 
কথি পারেন, চাইলগুলো কহানে যায়?

এই চাইল চইলে যায় রাজার গোলায়,
রাজার মন্ত্রীরা খায়, কোতোয়াল খায়, পুরোত মশাই চাটে,
কেউ কেউ গান ল্যাহে, ‘ধান ক্ষ্যাতে বাতাস বয়ে যায়।’
কেউ চিন্তা হরে ঠকাবি কারে।
ইতিহাসের পাতায় শুধু এগের কথায় ভরা,
শুধু লাঙল চষা আর পানি টানা কিষেণ ছাড়া।

তৃতীয়ঃ

মানুষ অতিরিক্ত ভাত দিয়ে কী করে?
ভাত দিয়ে যুদ্ধের পেট্রোল বানায়,
বোমার সূত্র আবিষ্কার করে,
ভাত নিয়ে রাজনীতি করে,
গরম ভাতের ফটোগ্রাফি উত্তম শিল্পকর্ম,
সন্ধ্যে বেলায় ইলিশের ঝোল দিয়ে ভাত খেলে দর্শনচর্চা বাড়ে।
অতিরিক্ত ভাত দিয়ে মানুষ সুন্দর ঘর বানায়,
গুদামঘরের ভাত চুরি রোধে দূর্গ গড়ে,
ভাত ছিটিয়ে কাক জড়ো করে নিরাপত্তা বাড়ায়,
মন্দিরে ভাতের নৈবেদ্য সাজায়,
মন্দিরের দেবতা ভাত ও ফুল খায়,
পুরোহিতরা ভাতের ভাগ পায়।

Comments

comments