অসমাপ্ত

Eyenewsbd.com
Eyenewsbd.com

অসমাপ্ত

কান্তা আহমেদ

পর্ব ১

এই যে শুনছেন? নাভিদ মুখ তুলে তাকালো…. নীল শাড়ী পড়া একটি মেয়ে এগিয়ে আসছে … – আমাকে বলছেন? – আসেপাশে তো আর কেউ নেই আপনি ছাড়া। – হুম, বলুন । – আপনি ইকোনোমিকস ডিপার্টমেন্ট এর সব চাইতে মেধাবী ছাত্র নাভিদ রহমান – হুম তো? – আমি সুহায়লা সুবাহ হীর প্রথম বর্ষ। সেদিন আপনার আবৃত্তি শুনেছিলাম, খুব চমৎকার আপনার কন্ঠ। – ধন্যবাদ। – কিন্তু… – কিন্তু কি? আঞ্চলিকতার একটা টান আছে? – হুম সেটাই মাঝে খানিকটা ছন্দপতন ঘটায় । নাভিদ এই প্রথম হীরকে ভালো করে দেখে। সুন্দরী বলতে যা বোঝায় তেমন নয় কিন্তু স্নিগ্ধ চোখ জুড়িয়ে যায়। – কি ভাবছেন? ওহ্ আসল কথাটা বলাই হয়নি আপনার জন্য রাতের বেলায় বারান্দায় বসা যায় না? এত স্মোক করেন আপনি বারান্দার দরজাটাও বন্ধ রাখতে হয়। গত একমাস হল আমরা আপনার পাশের ফ্ল্যাটে এসেছি। নাভিদ অবাক হল বললো – সোমা আন্টি আপনার আম্মু? – হুম। – আপনাকে তো একদিনও দেখিনি। – দেখেছেন তবে মনে করতে পারছেন না। আচ্ছা আসি। – অভিযোগ করতে এসেছিলেন? সে তো বাসায় করতে পারতেন এখানে কেন? – আসলে অভিযোগ নয় অনুরোধ করতে আসা। আমার জগতটা খুব ক্ষুদ্র আর এই ক্ষুদ্র জগতের একটা বিশাল অংশ এই বেলকনি। মেয়েটার চোখে রাজ্যের বিষণ্ণতা চোখ এড়ায় না নাভিদের। নাভিদ বললো- আজ থেকে এমন হবেনা। – স্মোকিং ছেড়ে দেবেন? – মন্দ বলেননি হীর হেসে বলে- মন্দ হয় না কিন্তু … আসি ….চলে যেতে যেতে এক বার পিছন ফিরে তাকায় ঠিক তখনই বুকের ভেতরে মোচর দিয়ে উঠে নাভিদের …. প্রথম দর্শনেই কি প্রেম……

পর্ব ২

আনমনে সিগারেটের প্যাকেটটা হাতে নেয় ঠিক তখনই ভেসে উঠে হীরের চেহারাটা সিগারেটের প্যাকেটটা সরিয়ে রাখে মনে পরে যায় শায়লা তাকে এই সিগারেট খাওয় বন্ধ করার জন্য কত ঝগড়া কান্নাকাটি মান অভিমান করেছে। কি দুর্দান্ত প্রেম ছিল তাদের। সবকিছুতেই খবরদারি ছিল তার। মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগতো আর তখন তাদের ঝগড়া হতো। কোন এক অজ্ঞাত কারণে শায়লা নিজেকে সরিয়ে নেয়। তিন বছরের সম্পর্ক শেষ হতে তিন সেকেন্ড ও লাগেনি। কষ্ট পেয়েছিল ভীষণ তবুও সে শায়লাকে কিছু বলেনি, কিছু জানতেও চায় নি। রাতে খাবার টেবিলে মাকে জিজ্ঞেস করতে গিয়েও চুপ করে থাকলো নাভিদ। খাওয়া শেষ করে বেলকনিতে দাড়ালো। শীত চলে এলো বোধহয় হালকা ঠান্ডা লাগছে একটা সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তেই মনে হল হীরের কথা সিগারেটটা ফেলে দিল অমনি পাশের বেলকনি থেকে হীরের কন্ঠ – সত্যিই কি ছেড়ে দিলেন? – কি মনে হয়? – জানিনা তবে অবাক হলাম – কেন? – সেদিন ছাদে আপনি পাখীদের খাবার দিচ্ছিলেন আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম পাখীর নাম আপনি কোন উত্তর দেননি অথচ আজ একবার বলাতে সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটা হজম হচ্ছে না। – ও সেদিন আপনি ছিলেন খেয়াল করিনি। আমি অন্য কেউ ভেবেছিলাম। – অন্যকেউ হুম আনিকা ভেবেছিলেন? – এবার কিন্তু আমার অবাক হবার পালা? কি করে জানলেন। – এতো খুব সহজ এখানে আসার পর থেকে আনিকার সাথে যতবার কথা হয়েছে ঘুরেফিরে শুধু সে আপনার কথাই বলেছে। নাভিদ হেসে ফেলে -অসম্ভব বিরক্ত করে এই মেয়েটা বয়সে পিচ্চি হলেও চরম ইচড়ে পাকা। – আপনাকে অনেক পছন্দ করে। – ধুর বাদ দেন তো। – অনেক রাত হল ঘুমাবেন না? – আপনি যান আমি আরো কিছুক্ষণ থাকবো হীর চলে যায় ……. অন্যরকম ভাললাগার আচ্ছন্নতায় বুদ হয়ে থাকে নাভিদ।

চলবে………

 

Comments

comments